শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশখালী

মহেশখালী-কক্সবাজার ঘাটে স্থানীয়দের ৫,পর্যটকদের ৫০ টাকা টোল,পর্যটকদের ক্ষোভ

কক্সবাজারের মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথের ঘাটে স্থানীয় যাত্রী ও পর্যটকদের কাছ থেকে ভিন্ন হারে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে যেখানে মাত্র ৫ টাকা টোল নেওয়া হচ্ছে, সেখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৫০ টাকা। একই ঘাট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বিদেশি পর্যটকদের জন্য আলাদা প্রবেশ ফি থাকলেও দেশের নিজস্ব নাগরিকদের ক্ষেত্রে একই সেবার জন্য ১০ গুণ বেশি টোল আদায়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা টোল নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যুক্তিসঙ্গত নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।

মহেশখালী ঘাটে আসা কয়েকজন পর্যটক জানান, তাদের কাছ থেকে ৫০ টাকা টোল নেওয়া হলেও নৌযানের ভাড়া প্রায় ৩০ টাকা। অর্থাৎ যাতায়াতের ভাড়ার চেয়েও বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে শুধু ঘাট ব্যবহার করতে। বিষয়টিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।

এদিকে গত শনিবার (১ আগস্ট) থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রী ও পর্যটকদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বাধ্য হয়ে গামবোট ও স্পিডবোটে যাতায়াত করতে হচ্ছে, আর সেই সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, সি-ট্রাক বন্ধ থাকায় বিকল্প নৌযানে যাতায়াত করতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে ঘাটের উচ্চ টোল যুক্ত হয়ে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। তারা দ্রুত সি-ট্রাক চালু এবং নৌযান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নৌযাত্রী সেবা, টোল আদায় ও ঘাট ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম চলে আসছে। একটি পুরোনো সি-ট্রাক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। তার ওপর স্থানীয় ও পর্যটকদের জন্য আলাদা টোলহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তাদের প্রশ্ন, একই ঘাট ব্যবহার করে যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য কেন এত বড় টোল বৈষম্য রাখা হয়েছে। টোলের হার কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সি-ট্রাক বন্ধ থাকার সুযোগে একটি প্রভাবশালী মহল অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে সুবিধা নিচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

মহেশখালীর সাধারণ মানুষের দাবি, নৌপথে নিরাপদ ও সুষ্ঠু যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সি-ট্রাক সচল করতে হবে। পাশাপাশি টোল আদায়ে বৈষম্য দূর, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং ঘাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

ক্যাটাগরি