সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৩০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্ন্তজাতিক

নালার লাইন খনন করতে গিয়ে মিলল কোটি টাকার স্বর্ণের বার ও মুদ্রা

বেলজিয়ামে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন পরিবর্তনের জন্য খননকাজ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার, স্বর্ণমুদ্রা ও মূল্যবান স্বর্ণের টুকরোর সন্ধান পেয়েছেন নির্মাণশ্রমিকরা। উদ্ধার হওয়া এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২৭ কোটি টাকা।

ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সিন্ট-জিলিস-ডেন্ডারমন্ডে এলাকায় এ চাঞ্চল্যকর গুপ্তধনের সন্ধান পাওয়া যায়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) একটি পুরোনো ভবনের সংস্কারকাজের অংশ হিসেবে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন পরিবর্তনের সময় ১৮ বছর বয়সী কোবে নামের এক চুক্তিভিত্তিক নির্মাণকর্মী প্রথম স্বর্ণগুলো দেখতে পান।

প্রথমে মাটিতে পড়ে থাকা জিনিসগুলোকে সাধারণ এক ইউরোর মুদ্রা বলে মনে করেছিলেন কোবে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি একটি স্বর্ণের বার দেখতে পান। এরপর আরও খনন করতেই একের পর এক স্বর্ণমুদ্রা, স্বর্ণের টুকরো ও মূল্যবান স্বর্ণের বার বেরিয়ে আসতে থাকে।

তদন্তকারীদের ধারণা, স্বর্ণগুলো পরিকল্পিতভাবেই সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। উদ্ধার করা সম্পদগুলো একটি পুরোনো ইটের সেলারের দেয়ালের ভেতরে প্লাস্টিকের ব্যাগে সাজানো অবস্থায় ছিল। বিভিন্ন স্তরে থরে থরে রাখা ছিল স্বর্ণমুদ্রা, স্বর্ণের টুকরো বা নাগেট এবং নির্দিষ্ট নম্বরযুক্ত স্বর্ণের বার।

স্থানীয় ইতিহাসের সঙ্গে এই গুপ্তধনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা যায়, উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে থিওফিলাস ভ্যান আস নামের এক ডিস্টিলারি মালিকের জন্য ওই এলাকায় একটি দৃষ্টিনন্দন ভিলা নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে ১৮৯৯ সালে বিয়ার উৎপাদন শুরু হয়, যা ১৯৭০ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। ভবনটির মূল ফটকে এখনো প্রতিষ্ঠাতার নামের আদ্যক্ষর ‘ভিএ’ খোদাই করা রয়েছে।

বর্তমানে সামাজিক কল্যাণ সংস্থা সিএডব্লিউ ওস্ট-ভ্লাদেরেন ভবনটি সংস্কার করে সেখানে অফিস ও আবাসন তৈরির কাজ করছে। সেই সংস্কারকাজের সময় ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন পরিবর্তন করতে গিয়েই মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা বিপুল এই স্বর্ণভান্ডারের সন্ধান পাওয়া যায়।

উদ্ধারের পর স্বর্ণের বার, মুদ্রা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ ভল্টে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এগুলোর প্রকৃত মালিক কে, তা শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রসিকিউটর অফিসের প্রতিনিধি হান ওলেভিয়ার জানিয়েছেন, প্রথমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ কোনো চুরি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না। একই সঙ্গে স্বর্ণের মালিকানা নিয়ে ভবিষ্যতে জটিল দেওয়ানি মামলাও হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, এ ধরনের গুপ্তধন পাওয়ার পর প্রকৃত মালিকের সন্ধানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তাই প্রায় ১২৭ কোটি টাকা মূল্যের এই বিপুল স্বর্ণভান্ডার শেষ পর্যন্ত কার মালিকানায় যাবে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

ক্যাটাগরি