বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয়

সাগর-রুনি হত্যা: একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ‘কানেকশন মিলেছে’- প্রধান কৌঁসুলি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগসূত্রের ‘ক্লু’ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম।

অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনার সময় ওই সূত্র পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি প্রধান কৌঁসুলি।

রোববার (৩০ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল ইসলাম বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিষয়ে পাওয়া ক্লুটির নাম-পরিচয় এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে সিডিআর পর্যালোচনায় একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের একটি ‘কানেকশন’ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, তার তথ্য আমাদের নজরদারিতে আছে। আরও তদন্তের পর নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইকে আমরা এই তথ্য দিয়ে সহায়তা করব।

অন্য মামলার তদন্তে মিলল সূত্র

সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স তদন্ত করছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সরাসরি এই মামলাটি তদন্ত করছে না বলে জানান প্রধান কৌঁসুলি।

তার ভাষ্য, অন্য একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সিডিআর পর্যালোচনা করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত ওই তথ্য সামনে আসে। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

১৪ বছরেও অধরা হত্যারহস্য

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও চার দিন পর মামলার তদন্তভার যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে।

দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হাই কোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দীর্ঘ সময় র‌্যাবের তদন্তেও হত্যারহস্যের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাই কোর্ট র‌্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। পিবিআই প্রধানকে করা হয় টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক।

নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল হাই কোর্ট টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দেয়।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল

মামলাটিতে বিভিন্ন সময়ে রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তানভীর রহমান খানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তানভীর রহমান খান জামিনে রয়েছেন। পলাশ রুদ্র পালও জামিনে মুক্তির পর পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামিরা কারাগারে আছেন।

ট্রাইব্যুনালে হবে না সাগর-রুনি মামলার বিচার

সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় পড়বে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, এটি ‘ওয়াইডস্প্রেড বা সিস্টেমেটিক অফেন্স’ নয়; বরং একটি স্বতন্ত্র হত্যা মামলা। ফলে এর বিচার সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতেই হবে।

তবে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে পাওয়া নতুন তথ্য-উপাত্ত ও আলামত সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাকে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

খবর শুনে ট্রাইব্যুনালে মেঘ

এদিকে, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজনের সংশ্লিষ্টতার ‘ক্লু’ পাওয়ার কথা জানতে পেরে রোববার বিকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যান এ দম্পতির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। সঙ্গে ছিলেন তার মামা নওশের আলম রোমান।

দীর্ঘ ১৪ বছরেও বাবা-মায়ের হত্যারহস্যের নিষ্পত্তি না হওয়ায় নতুন এই তথ্য-সূত্র তদন্তে কতটা অগ্রগতি আনে, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

ক্যাটাগরি