চকরিয়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার, ৬ জন গ্রেফতার
চট্টগ্রাম রেঞ্জের মাননীয় ডিআইজি মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ সুপার, কক্সবাজার জনাব এ. এন. এম. সাজেদুর রহমান-এর তত্ত্বাবধানে, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আবদুল আজিজ ও অফিসার ইনচার্জ, চকরিয়া থানা জনাব মোঃ আরিফুর রহমান-এর নেতৃত্বে থানা এলাকায় মাদক, অবৈধ অস্ত্র, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানা পুলিশের চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ১৩/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের শুরু ১৩/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ২১:০৫ ঘটিকার সময় চকরিয়া থানাধীন লাল ব্রীজ এলাকায় অভিযানিক টিম অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বদরখালী ইউনিয়নের ০৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম ছনুয়া পাড়া এলাকায় একটি বসতঘরে একদল দুষ্কৃতিকারী ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে।
দুর্গম এলাকায় পুলিশের অভিযান সংবাদটি অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ আরিফুর রহমানকে অবহিত করা হলে তিনি অভিযানিক টিমসহ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ঘটনাস্থলে যাতায়াতের রাস্তা দুর্গম হওয়ায় গাড়ি রেখে পুলিশ সদস্যরা প্রায় ২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে রাতের অন্ধকারে কৌশলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি ঘেরাও করেন।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে অভিযানিক টিম তাদের আটক করে। এ সময় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ডাকাত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
প্রথম অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার অভিযানে রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬), মোঃ সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০) ও জহুরা বেগম (৪৫)-কে ১৩/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ২১:৪০ ঘটিকার সময় গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়—
১। ১টি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল।
২। ১টি দেশীয় তৈরি একনালা রাইফেল।
৩। ১টি দেশীয় শর্টগান।
৪। ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি।
৫। ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি।
৬। ২ রাউন্ড তাজা শর্টগানের কার্তুজ।
৭। ২ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজের খোসা।
৮। ১টি ক্লিনিং রড।
৯। অস্ত্র ও গুলি তৈরির সরঞ্জাম।
১০। ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন।
১১। ৩টি বাটন মোবাইল ফোন।
পরবর্তী ২য় অভিযানে আরও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বদরখালী ইউনিয়নের ০৪নং ওয়ার্ডের হালকাচা পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শহর বানু (৫৫) নামের আরও একজন পালানোর চেষ্টা করলে ১৩/০৯/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত ২২:১০ ঘটিকার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তার বসতঘরের পেছনের পুকুর থেকে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তার ভিতর থেকে ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, প্রথম অভিযানে ৫৮ রাউন্ড এবং ২য় অভিযানে ৭৬৭ রাউন্ড, সর্বমোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়।
অস্ত্র তৈরি ও ডাকাতির বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, তারা উক্ত স্থানে অস্ত্র ও গুলি তৈরি করে অস্ত্র-গুলি কেনাবেচা এবং ডাকাতির জন্য অন্যান্য ডাকাতদের কাছে অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে জড়িত।
তারা বিভিন্ন রোড ডাকাতিসহ চকরিয়া থানা এলাকায় এবং আন্তঃজেলা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা উক্ত অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, নিরীহ জনগণকে জিম্মি করা এবং বিভিন্ন মাছের ঘোনাসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানা যায়।
এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছে বলে জানা যায়।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উপরোক্ত গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, হত্যা ও বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আইনগত ব্যবস্থা
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অপরাধে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতি ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার ঘটনায় প্রচলিত আইনে পৃথক মামলা রুজুর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের মাননীয় ডিআইজি মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদক, অবৈধ অস্ত্র, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অপরাধমুক্ত চকরিয়া গড়তে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।