বাংলাদেশি পরিচয়ে প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, বিয়ের প্রতিশ্রুতি; লাখ টাকা-স্বর্ণ হাতিয়ে প্রতারণা রোহিঙ্গা নারীর
কক্সবাজারের উখিয়ার এক কাতারপ্রবাসীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে কয়েক লাখ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক রোহিঙ্গা নারীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে ওই নারী প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক ও পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি বিয়ের প্রস্তুতিও এগিয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের জন্য বাংলাদেশি পরিচয় প্রমাণে কুমিল্লার ঠিকানা ব্যবহার করে ঢাকার সিটি করপোরেশন থেকে জন্মনিবন্ধনও সংগ্রহ করা হয়েছে। কীভাবে এই জন্মনিবন্ধন হলো, এর পেছনে কোন দালালচক্র জড়িত —তা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
জানা যায়,
কক্সবাজারের উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা ইদ্রিস। জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে কাতারে থাকেন তিনি। অভিযোগ, মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক নারীর সঙ্গে গড়ে ওঠে তার সম্পর্ক।
প্রথমে পরিচয়, এরপর নিয়মিত কথাবার্তা—একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক গড়ায় প্রেমে। ভুক্তভোগীর দাবি, ওই নারী নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন।
কিছুদিন পর বিয়ের প্রস্তাব দেন ওই নারী। ইদ্রিসও সরল বিশ্বাসে সেই প্রস্তাবে রাজি হন। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের আলোচনা এগোতে থাকে।
এ সময় অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে ধাপে ধাপে নগদ টাকা, স্বর্ণ, দামি মোবাইল ফোন, পোশাকসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস নেওয়া হয়।
কিন্তু বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করার সময়ই সামনে আসে বড় প্রশ্ন—পরিচয় কী?
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ওই নারীর প্রকৃত বাড়ি মিয়ানমারে। ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা ঢলের সময় পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে এসে তিনি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেন।
রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে কীভাবে তিনি বাংলাদেশি পরিচয় ব্যবহার করলেন—এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিয়ের বিষয়টি পাকাপাকি করতে প্রয়োজন হয় বাংলাদেশি নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কুমিল্লার একটি ঠিকানা ব্যবহার করে ঢাকার সিটি করপোরেশন থেকে ওই নারীর নামে জন্মনিবন্ধন সংগ্রহ করা হয়।
জন্মনিবন্ধনের ওই কাগজ দেখিয়ে বিয়ের কথাবার্তা এগোয় বলে দাবি ভুক্তভোগীর। নির্ধারণ করা হয় ছয় লাখ টাকা দেনমোহর। পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রীর বিষয়েও আলোচনা হয়।
এরপর উখিয়া থেকে ইদ্রিসের আত্মীয়-স্বজন কক্সবাজার শহরের সাবমেরিন ক্যাবল এলাকার চৌধুরীপাড়ায় ওই নারীর ভাড়া বাসায় আসে ।
সেখানে আপ্যায়নের পর ইদ্রিসের স্বজনরা ওই নারীর হাতে আংটি পরিয়ে দেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
তবে এরপরই বদলে যায় পরিস্থিতি।
অভিযোগ, দামি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, স্বর্ণ, পোশাকসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিস নেওয়ার পর হঠাৎ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান রুমি আক্তার। একপর্যায়ে ইদ্রিসের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, এখনো দেওয়া টাকা ও মুল্যবান সামগ্রী ফেরত দেননি রোহিঙ্গা রুমি আক্তার।
“ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, প্রতারণা এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ঝামেলায় পড়তে হবে রুমি আক্তারকে এমন মন্তব্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার।
তবে অভিযোগের বিষয়ে রুমি আক্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আমাদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
“প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি, এরপর জন্মনিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন এবং শেষ পর্যন্ত প্রতারণার অভিযোগ—পুরো ঘটনায় এখন সামনে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। বিশেষ করে একজন রোহিঙ্গা নারী কীভাবে বাংলাদেশি পরিচয়ে জন্মনিবন্ধন পেলেন এবং এর পেছনে কেউ সহযোগিতা করেছে কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
একজন প্রবাসীর অভিযোগের মধ্য দিয়ে সামনে আসা এই ঘটনার সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। একই সঙ্গে জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে।