নামজারির ঘুষ হিসেবে ৯ শতক জমি, উপসচিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
কক্সবাজারে জমির নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ হিসেবে ৯ শতক জমি নেওয়ার অভিযোগে সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বর্তমান উপসচিব পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের বরাতে বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
মামলার অনুমোদন পাওয়া অন্যরা হলেন কক্সবাজার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূর, তার শ্যালক ইফতেখারুল হাসান, সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেনের শ্যালক মফিজুর রহমান এবং পঙ্কজ বড়ুয়ার দাদিশাশুড়ি দীপিকা বড়ুয়া। সংশ্লিষ্ট আরেক ব্যক্তি আবুল হোসেন ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতে কক্সবাজার মৌজার ৩০ শতক জমির নামজারি করতে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র জমা দিয়েছিলেন জমির মালিক। অভিযোগ, নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে জমি ঘুষ হিসেবে দাবি করা হয়।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল একটি অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের মাধ্যমে জমির মালিক তিনজনের স্বজনের নামে ৩ শতক করে মোট ৯ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এর মধ্যে মফিজুর রহমানের নামে ৩ শতক, ইফতেখারুল হাসানের নামে ৩ শতক এবং দীপিকা বড়ুয়ার নামে ৩ শতক জমি রেজিস্ট্রি করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬২ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পঙ্কজ বড়ুয়ার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না।’ অন্যদিকে, দুদকের নথি অনুযায়ী দীপিকা বড়ুয়া তার দাদিশাশুড়ি হলেও পঙ্কজ বড়ুয়া এ সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এগোবে। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট