এক্সক্লুসিভ

আজ মহালয়া, দেবীপক্ষের সূচনায় শারদীয় দুর্গোৎসবের শুরু

  • চণ্ডীপাঠে দেবীর আবাহন, পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণ; ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজা, ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী

শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা নিয়ে আজ শনিবার পালিত হচ্ছে মহালয়া। চণ্ডীপাঠ, দেবী দুর্গার আবাহন এবং প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পালন করছেন দিনটি। মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনা হওয়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গোৎসবের আগমনী আবহ।

মহালয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ একটি তিথি। এই দিন দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের আবাহনের পাশাপাশি প্রয়াত স্বজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। ভোর থেকেই বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় স্থানে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা এবং তর্পণের আয়োজন করা হয়েছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়া কেবল দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা নয়; এটি পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনেরও বিশেষ দিন। পিতৃপক্ষের শেষলগ্নে প্রয়াত আত্মীয়দের স্মরণ করে জল, তিলসহ বিভিন্ন উপকরণ উৎসর্গের মাধ্যমে তর্পণ করেন ভক্তরা। নদী ও জলাশয়ের তীরে এ উপলক্ষে অনেককে ধর্মীয় আচার পালন করতে দেখা যায়।

মহিষাসুর বধের কাহিনিতে দেবী দুর্গার আবির্ভাব

মহালয়ার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে দেবী দুর্গার আবির্ভাব এবং অসুরবিনাশের পৌরাণিক আখ্যান। পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, মহিষাসুর কঠোর তপস্যার মাধ্যমে বর লাভ করে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সে দেবতাদের পরাজিত করে স্বর্গের কর্তৃত্ব দখল করে।

মহিষাসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ দেবতারা তখন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শরণাপন্ন হন। দেবতাদের সম্মিলিত শক্তি থেকে আবির্ভূত হন মহামায়া দেবী দুর্গা। দেবতাদের দেওয়া বিভিন্ন অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দেবী মহিষাসুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, দীর্ঘ যুদ্ধের পর দেবী মহিষাসুরকে বধ করে দেবলোক ও বিশ্বজগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের এই আখ্যান দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ। মহালয়ার চণ্ডীপাঠে দেবীর আবির্ভাব ও অসুরবিনাশের কাহিনি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণ

মহালয়ার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় আচার তর্পণ। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, পিতৃপক্ষে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তাঁদের আত্মার শান্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়। এ উপলক্ষে ভক্তরা জল, তিলসহ বিভিন্ন উপকরণ নিবেদন করে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

মহালয়ার ভোরে নদী, পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়ের তীরে তর্পণ করার ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। অনেকের কাছে এই আচার শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পূর্ববর্তী প্রজন্মের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশেরও একটি উপলক্ষ।

অন্যদিকে, মন্দির ও পূজামণ্ডপে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা এবং ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবকে ঘিরে ধর্মীয় প্রস্তুতি। মহালয়ার পর থেকেই বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দুর্গাপূজার আয়োজন ও উৎসবের প্রতীক্ষা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজা, ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী

সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়ার কথা শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর কয়েক দিন ধরে পূজা, অঞ্জলি, আরাধনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হবে দুর্গোৎসব। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এবারের উৎসব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মহালয়াকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দুর্গাপূজার আগমনী আবহ তৈরি হয়েছে। দেবীর আবাহন, পূর্বপুরুষদের স্মরণ এবং অশুভ শক্তির বিনাশের প্রত্যাশায় দিনটি পালন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই ধর্মীয় আবহ শেষ পর্যন্ত রূপ নেবে শারদীয় দুর্গোৎসবের সার্বজনীন আনন্দে। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে ভক্তদের প্রার্থনা—অশুভের বিনাশ হোক, শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা ঘটুক এবং সবার জীবনে নেমে আসুক শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ।

ক্যাটাগরি