নাফ নদীতে ডুবন্ত কন্টেইনারে ইয়াবাপাচার ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা, অস্ত্র ও গুলিসহ ৩ পাচারকারী আটক
কক্সবাজারের উখিয়ায় ইয়াবা পাচারে নতুন কৌশল নিয়েছে চোরাকারবারিরা। নাফ নদ পেরিয়ে ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঠের তৈরি বিশেষ ডুবন্ত ক্যারিয়ার বা ‘ডুবন্ত কনটেইনার’। বিজিবির তথ্যমতে, এই ক্যারিয়ারে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহন করা সম্ভব।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে উখিয়ার পালংখালী ও বালুখালী বিওপির পৃথক অভিযানে ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি ও পাচারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তিনজনকে আটক করেছে ৬৪ বিজিবি।
মঙ্গলবার বিকেলে টেকনাফ সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম। এ সময় ক্যাপ্টেন মাহরাফ জামান উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পালংখালী বিওপির একটি টহল দল উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়ায় মনিরের ঘেরে একটি মাচাংঘরের পাশে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পায়। তাদের চ্যালেঞ্জ করা হলে পালানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়। পরে ওই স্থান ও ঘেরের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র, গুলি, ডুবন্ত কাঠের ক্যারিয়ার ও পাচারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। একই রাতে বালুখালী বিওপির পৃথক অভিযানে আরও একজনকে আটক করা হয়।
উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ১১ রাউন্ড গুলি, একটি মুঠোফোন, নয়টি কপিকল, কাঠের তৈরি একটি ডুবন্ত ক্যারিয়ার, প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার, একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও একটি বৈদ্যুতিক মোটর।
বিজিবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে ক্যারিয়ারটি নাফ নদ পেরিয়ে পালংখালীর ফাইস্যা খাল দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে আনা হতো। খালের আঁকাবাঁকা পথে ক্যারিয়ারটি এগিয়ে নিতে তার ও কপিকলের বিশেষ ব্যবস্থা ব্যবহার করতেন পাচারকারীরা। বিজিবির দাবি, এই পদ্ধতিতে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহন সম্ভব।
বিজিবি আরও জানায়, সীমান্তে নজরদারি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় মাদক কারবারিরা প্রচলিত পদ্ধতি বদলে নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর টেকনাফের হ্নীলায় নৌকার সাহায্যে পানির নিচ দিয়ে রশি টেনে নেওয়ার সময় ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছিল। চলতি বছর উখিয়া ব্যাটালিয়ন মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় এক কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এসব অভিযানে আটক হয়েছেন ২২৮ জন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, চোরাকারবারিরা যতই অভিনব কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, মাদক পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।