বেগম খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রায় লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধা
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ আজ এক আবেগঘন জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছে। যতদূর চোখ যায়—মানুষ আর মানুষ। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরের আগেই শোকার্ত মানুষের ঢল নেমেছে রাজধানীর রাজপথে। যে যাত্রা আর ফেরার নয়, সেই অনন্ত পথে আজ তাঁর সঙ্গী লাখো মানুষের শ্রদ্ধা, অকৃত্রিম ভালোবাসা আর অশ্রুসিক্ত নীরবতা।
জানাজার মাঠে উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মী—কারও চোখই আজ শুষ্ক নয়। কেউ হাউমাউ করে কাঁদছেন, কেউ আবার নিঃশব্দে চোখের জল মুছছেন। ভাষা হারিয়ে সবাই যেন একে অপরকে শুধু অনুভব করছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বেগম খালেদা জিয়া যে কেবল একটি দলের নেত্রী নন, বরং জাতীয় আবেগের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন—মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত জনস্রোতই তার স্পষ্ট প্রমাণ। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষ শেষবারের মতো একনজর দেখতে চান এই ‘আপসহীন’ নেত্রীকে।
প্রকৃতিও যেন আজ করুণার পরশ বুলিয়েছে। কয়েক দিনের কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশা সরে গিয়ে আকাশে উঠেছে মোলায়েম রোদ—যা দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকা মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে স্বস্তির ছায়া।
বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলে লাল-সবুজ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় পৌঁছায়। এর আগে সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহ নেওয়া হয়েছিল গুলশানে তাঁর পুত্র তারেক রহমানের বাসভবনে। সেখান থেকেই শুরু হয় এই দীর্ঘ, শোকাতুর যাত্রা। দুপুর গড়াতেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ছাপিয়ে মানুষের ঢল ছড়িয়ে পড়ে ফার্মগেট ও আশপাশের সড়কে। পুরো এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা হয় কঠোর নিরাপত্তাবলয়।
দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনিসহ নানা জটিলতায় ভুগে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ৭৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিকূল সময়গুলো অতিক্রম করা এই নেত্রীর প্রয়াণে আজ সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে, ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি।
জানাজা শেষে শেরেবাংলা নগরে তাঁর স্বামী, স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন বেগম খালেদা জিয়া। এক দীর্ঘ, বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামী রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটলেও, মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্মৃতি ও প্রভাব থেকে যাবে বহুকাল।