ভোট নিয়ে জনমনে শঙ্কা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হতাশাজনক : আসিফ মাহমুদ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে দেশের জনগণের মধ্যে গভীর শঙ্কা বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একই সঙ্গে তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে বিকেল তিনটার দিকে এনসিপির পক্ষ থেকে সিইসির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন আসিফ মাহমুদ।
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখনো রাস্তায় বের হলে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করে—আদৌ নির্বাচন হবে কি না। নির্বাচন হবে কি হবে না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে সংশয় কাজ করছে, তা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতারই প্রতিফলন। তারা এখনো জনগণকে সেই আত্মবিশ্বাস দিতে পারেনি।
দলের ভেতরেও শঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, যেখানে একজন প্রার্থীর শুনানি হওয়ার কথা, সেখানে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে—এ ধরনের ঘটনা দেখলে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মধ্যেও শঙ্কা তৈরি হয়। বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আবার অনেক জায়গায় প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পরদিনই চিহ্নিত আসামির হাতে আমাদের সহযোদ্ধা হাদি শহীদ হয়েছেন। এই ঘটনা নির্বাচন নিয়ে শঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করেছে। মাঠে দৃশ্যমান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নেই, পরিস্থিতিও আগের মতোই রয়ে গেছে।
ইসি সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে শুধু আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে তিনি বলেন, কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে কমিশনকে তা প্রমাণ করতে হবে। যদি দেখা যায়, একতরফা কোনো নির্বাচনের দিকে দেশ এগোচ্ছে, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের যাতায়াত শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে যদি আবারও কোনো পাতানো নির্বাচনের ছক আঁকা হয়, তাহলে এনসিপি বাধ্য হয়ে রাজপথের পথ বেছে নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।