বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফ

টেকনাফে মানব পাচারকে কেন্দ্র করে দুই অস্ত্রধারী গ্রুপের গোলাগুলি, গুলিতে নিহত কিশোরী

কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচারকে কেন্দ্র করে দুই অস্ত্রধারী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে সুমাইয়া আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরী নিহত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় পাচারকারীদের আস্তানা ঘিরে চলা আধাঘণ্টার গুলিবিনিময়ের মধ্যে বসতবাড়িতে ঢুকে পড়া গুলিতে প্রাণ হারায় নিরীহ এই কিশোরী।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী মানব পাচারের উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাসহ কয়েকজনকে বাহারছড়ার নোয়াখালী পাহাড়ি এলাকায় জিম্মি করে রাখে একটি মানবপাচারকারী চক্র। জিম্মিদের উদ্ধারের লক্ষ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসা ১০–১২ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি সন্ধ্যার পর পাহাড়ি আস্তানায় হামলা চালায়।

এ সময় পাচারকারীরা পাল্টা গুলি ছোড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলি চলে। এর মধ্যেই একটি গুলি পাহাড়সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ছিদ্দিক আহমেদের বসতঘরে ঢুকে পড়ে।

গুলিটি ছিদ্দিক আহমেদের মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বুকে লাগে। ঘটনাস্থলেই সে লুটিয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত কিশোরীর বাবা মো. ছিদ্দিক আহমেদ বলেন, হঠাৎ পাহাড়ের দিক থেকে প্রচণ্ড গুলির শব্দ শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার মেয়ের বুকে গুলি লাগে। আমরা সাধারণ মানুষ, অথচ অপরাধীদের সংঘর্ষে আমার সন্তান প্রাণ দিল। আমি এর বিচার চাই।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রধারী দুই গ্রুপের গোলাগুলির সময় একটি বসতবাড়িতে গুলি এসে লাগে। এতে এক কিশোরী নিহত হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়ার ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াছ বলেন, মানব পাচারের উদ্দেশ্যে পাহাড়ে লোকজন জিম্মি করে রাখার খবর ছিল। তাদের উদ্ধার করতে আরেকটি অস্ত্রধারী গ্রুপ হামলা চালায়। দুই পক্ষের গোলাগুলিতে সাধারণ মানুষের ঘরেও গুলি লাগে। এখন পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টেকনাফের পাহাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মানব পাচার, মাদক কারবার ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাগরপথে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের বিদেশে পাঠানোর নামে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করছে একাধিক চক্র।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পরও এসব চক্র পুরোপুরি নির্মূল না হওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শুক্রবারের ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে-পাহাড়ি আস্তানাগুলোতে এত অস্ত্রধারী গ্রুপ কীভাবে প্রকাশ্যে অবস্থান করছে এবং কেন আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

নিহত সুমাইয়ার পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা পাহাড়ি এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি ও নিয়মিত যৌথ অভিযান জোরদারের দাবি তুলেছেন।

ক্যাটাগরি