বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতি

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি তদন্তের দাবি ছাত্রদলের

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষপাতদুষ্ট আচরণসহ তিন দফা দাবিতে ইসির সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্মসূচিতে নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আসিফ মাহমুদ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন। তার দুর্নীতির বিষয়ে দুদকের মাধ্যমে তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অথচ তিনি নির্বাচন কমিশনে এসে হুমকিস্বরূপ আচরণ করছেন। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান—এভাবে ভয় দেখানো গ্রহণযোগ্য নয়। ছাত্রদল এসব হুমকিতে ভয় পায় না।”

তিনি জানান, তিনটি ভিন্ন বিষয়ে ছাত্রদল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে এবং আগের দিন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তারা।

পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “২০১৮ সালের নিশিরাতের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নিজ নিজ বাড়িতে ব্যালট রেখেছিল। দুঃখজনকভাবে ২০২৬ সালে এসে আমরা জামায়াতের বাসাবাড়িতে ব্যালট দেখতে পাচ্ছি। এটি আবারও ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।”

নাছির আরও বলেন, বৈঠকে নির্বাচন কমিশন পোস্টাল ব্যালটের অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং অনিয়ম দূর করার আশ্বাস দিয়েছে। তবে ব্যালট কীভাবে বাসাবাড়িতে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে কমিশন কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলেন, “নতুন রাজনৈতিক দল গঠনকারী কারও চোখ রাঙানিতে ভয় পাবেন না। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন।”

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গত ৫ জানুয়ারি শাবিপ্রবির ছাত্র সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হলেও তা গোপন রাখা হয়। অভিযোগ করে তিনি বলেন, উপাচার্য গোপনে ছাত্রশিবিরকে ওই চিঠির বিষয়টি জানান এবং পরে ঢাকায় গিয়ে তদবির করে নতুন চিঠি এনে ২০ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত জানান।

তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে ১২ দিনের মধ্যে অন্তত ছয় দিন কোনো প্যানেল প্রচারণা চালাতে পারেনি, ফলে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়। এছাড়া ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত ১৫ সদস্যের কমিটির মধ্যে আটজন সদস্য ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “এই অবস্থায় বিতর্কিত উপাচার্যের পক্ষে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। আমরা তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

ক্যাটাগরি