বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়া

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই সাড়ে চার শতাধিক ঘর, আশ্রয়হীন শত শত পরিবার

কক্সবাজারের উখিয়ার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাড়ে চার শতাধিক বসতঘরসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় পুড়ে গেছে। শীতের রাতে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে শত শত রোহিঙ্গা পরিবার।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুনের সূত্রপাত হয়। ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে ব্র্যাক পরিচালিত একটি শিখন কেন্দ্রে প্রথমে আগুন লাগে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের শেড ও বসতঘরে।

স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে ক্যাম্পের তিনটি ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্যাম্প প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি না হলেও অন্তত ৪৫০টি বসতঘর, ১০টি শিখন কেন্দ্র, দুটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। হঠাৎ আগুনে সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গারা।

ডি-৪ ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ আলী বলেন, রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম, হঠাৎ চিৎকার শুনে কোনোরকমে বের হয়েছি। আমার ব্লকের একটি ঘরও অবশিষ্ট নেই, সব পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা আহমেদ উল্লাহ বলেন, পরিবারের সদস্য সাতজন, এমনিতেই শীতের কষ্ট, তার ওপর ঘর হারালাম, এখন কোথায় থাকব কিছুই বুঝতে পারছি না।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, আগুনের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালায়, ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্থায়ী ঘরবাড়ি, ঘনবসতি ও সীমিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে আগুনে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায় এবং এর আগের দিন কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পেও আগুনে একাধিক ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ক্যাটাগরি