টেকনাফে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পেলেন অপহৃত ৬ কৃষক
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে পাহাড়ি দুষ্কৃতকারীদের হাতে অপহৃত ছয়জন বাংলাদেশি কৃষক বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি পেয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অপহৃতদের পরিবার থেকে মোট সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া সংলগ্ন তলাজুরি পাহাড়ি ছড়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়া কৃষকেরা হলেন— হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার এলাকার সুলতান ফকিরের ছেলে মো. জমির (৬২), এজাহার হোসেনের ছেলে মো. আলম (১৮), শামশুল আলমের ছেলে জাহেদ হোছন ওরফে মুন্না (৩০) ও রবিউল আলমের ছেলে মো. শফিউল আলম (১৩)। এছাড়া একই ইউনিয়নের কম্বোনিয়া পাড়ার আশ্রয়কেন্দ্র এলাকার মোজাহার মিয়া (৫০) এবং তার ছেলে মোস্তাক (১২)।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অপহৃতদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের পর পাহাড়ি তলাজুরি পানির ছড়ায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। পাহাড়ি পথ চিনতে পারায় তারা নিজেরাই হেঁটে নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে সক্ষম হন।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীরা অপহরণকারী চক্রের চারজন সদস্যকে শনাক্ত করেছেন। তাদের মধ্যে তিনজন বাহারছড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং একজন উপজাতি সম্প্রদায়ের বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার এলাকার আশ্রয়কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজের সময় অস্ত্রের মুখে ছয় কৃষককে অপহরণ করা হয়। পরে তাদের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এদিকে পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক অপহরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। মুক্তিপণ দিয়ে ভুক্তভোগীরা ফিরে এলেও এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা কাটেনি বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। অপহরণকারী চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।