বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতি

১২ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের আমানত ও ভোটে জয়ী হলে ১৩ তারিখ থেকেই দেশের চিত্র পাল্টে যাবে। তিনি ঘোষণা দেন, দেশের নব্বই শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে অবশ করে দেওয়া হবে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনী সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে ১০ দলীয় জোটের আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, “রাজার ছেলে রাজা হবে—এই সংস্কৃতি আমরা আর চলতে দিতে পারি না। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে একজন রিকশাচালকও তার যোগ্যতায় এমপি কিংবা মন্ত্রী হতে পারবে।” তিনি চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেটচক্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণার কথাও জানান।

জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এই বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল, যেখানে শাসকগোষ্ঠী নারীদের ওপর হামলা করতেও দ্বিধা করেনি। শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, “সে বুক পেতে বলেছিল—‘বুক পেতেছি, গুলি কর।’ তার রক্ত আমাদের কাছে আমানত। এই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য ও ন্যায়বিচার।”

পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাঘ মাসে শীত নেই, বর্ষায় বৃষ্টি নেই—এর কারণ প্রকৃতির ওপর জুলুম। যারা দেশ শাসন করেছে, তারা প্রকৃতিকে লুণ্ঠন করেছে। সেই হঠকারী আচরণের মূল্য আজ পুরো জাতিকে দিতে হচ্ছে।”

চাঁদাবাজদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, তারা বাজপাখির মতো সাধারণ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে, যার ফলে কৃষক, পরিবহণ মালিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “চাঁদাবাজ কার বাবা-মা বা সন্তান—তা দেখা হবে না। যারা রাজনীতি করবে আর চাঁদাবাজিও করবে, তাদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে। প্রয়োজনে আমরা কঠোর ও নির্দয় হবো।”

জনসভায় বক্তব্য রাখেন ফেনী-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী এসএম কামাল উদ্দিন, ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী-২ আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা কমিটির সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুক্তি আবদুল হান্নান। সমাবেশে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এর আগে জামায়াত আমির ফেনীতে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাসিনা সরকারের ক্যাডারদের গুলিতে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

ক্যাটাগরি