বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশখালী

মহেশখালীর শাপলাপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে দখলচেষ্টায় গভীর রাতে দুই দফা সশস্ত্র হামলা, গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চমেক আইসিইউতে আহত নেছার

কক্সবাজারের মহেশখালী শাপলাপুর ইউনিয়নের ঘোনা পাড়া এলাকায় আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে বসতঘর দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে দুই দফা সশস্ত্র হামলা, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নেছার আলমের অবস্থা সংকটাপন্ন; তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ইয়াসমিন (ছদ্মনাম), একই এলাকার মহিমের স্ত্রী, অভিযোগ করেন ৪ মার্চ রাত আনুমানিক ১টার দিকে স্বামী ঘরে না থাকার সুযোগে ছৈয়দ আহমদ প্রকাশ বার্মাইয়ার ছেলে আব্দুর রহমান বিশ্বাস ও তার ভগ্নিপতি ওমর তার বসতঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা তাকে ঝাঁপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে শ্লীলতাহানি, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে ঘরছাড়া করার ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে অভিযুক্তরা সরে যায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হলে রাত আনুমানিক ২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। খরত আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে আব্দুল খালেক, মান্নান, হান্নান, নুরুল আলম প্রকাশ লেড়াইয়া মো. আলম, তার ছেলে রেজাউল করিম, তার ভাই সাজ্জাদ, সৈয়দ আহমদ প্রকাশ বার্মাইয়ার ছেলে মো. হোসেন এবং বার্মাইয়ার মেয়ের জামাই হোয়ানকের মোশাররফসহ একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ মহিমের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় নেছার আলম, কফিল উদ্দিন, সবুর খান ও বাবুল গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীয় জমি নিয়ে ছৈয়দ আহমদ প্রকাশ বার্মাইয়ার সঙ্গে বিরোধ চলছিল। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জালাল আহমদ গং বাদী হয়ে এমআর মামলা (নং-১৫৯/২৬) দায়ের করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীয় জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পরিকল্পিতভাবে রাতের অন্ধকারে দখলচেষ্টা ও সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, প্রশাসনের সক্রিয় নজরদারি থাকলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যেত। দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নিলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

বর্তমানে ঘোনা পাড়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

(প্রতিবেদন প্রস্তুতকালে ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য পাওয়া গেলেও অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।)

ক্যাটাগরি