কক্সবাজারে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার
কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ কলাতলী এলাকায় গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় কায়সার (৩০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ মার্চ) সকালে স্থানীয়দের খবরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত কায়সারের বাবার নাম মোহাম্মদ সিরাজ। তার বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবারিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাহের পাড়ায়। জীবিকার তাগিদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ কলাতলী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। পেশায় তিনি একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন এলাকায় যাত্রী পরিবহন করে সংসার চালাতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কায়সারের সংসারে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক টানাপোড়েন চলছিল। ধার-দেনার চাপ এবং পারিবারিক অশান্তি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।
নিহতের স্ত্রী জানান, সেহরির সময় ধার-দেনা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় কায়সার তাকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলেন এবং এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। তিনি বলেন, “ঝগড়ার একপর্যায়ে আমাকে মারধর করে বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসতে বলে। পরে আমি আমার মাকে ডাকতে বাইরে যাই। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি আমার স্বামী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে।”
পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে ঘরের দরজা খুলে ঝুলন্ত অবস্থায় কায়সারের মরদেহ উদ্ধার করে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমির উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ কলাতলী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাসকারী নিম্ন আয়ের অনেক পরিবার আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে মানবিক সংকটে ভুগছে। এমন পরিস্থিতি থেকে পারিবারিক কলহ এবং মানসিক চাপ বাড়ছে, যা অনেক সময় ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে বলে মনে করছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সবদিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।