উখিয়ায় মাছের ঘেরে হামলা, জিম্মি করে মাছ লুটের অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি মাছের ঘেরে হামলা চালিয়ে মালিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫–২৬ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী জমিদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইকরামুল কবির (৭২)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীসহ কয়েকজন শরিকের সঙ্গে যৌথভাবে মালিকানাধীন প্রায় ৩০ একর জমিতে মাছ চাষের একটি প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি চুক্তির মাধ্যমে কয়েকজন ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে প্রায় ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে সেখানে মাছ চাষ শুরু করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, কিছুদিন ধরে এলাকার একটি চক্র তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১২ থেকে ১৩ দিনের মধ্যে কয়েক দফায় ওই চক্র মাছের ঘের থেকে প্রায় তিন লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়।
সর্বশেষ গত ১০ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তরা ধারালো দা, লাঠি, লোহার শাবল, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাছ ধরার জাল নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মাছের ঘেরে হামলা চালায়। এ সময় তারা মাছের ঘেরে থাকা বাসায় ঢুকে বাদী ও একজন সাক্ষীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তাদের অবরুদ্ধ করে রেখে ঘের থেকে চিংড়ি, তেলাপিয়া, টেংরা, কোরাল, বাটা সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও মাছের পোনা জাল দিয়ে ধরে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা দাবি করা ১০ লাখ টাকা না দিলে মাছের ঘের দখল করে নেওয়া এবং বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—নুরুল হক, হামিদুল হক, মোহাম্মদ রাশেল, সেলিমুল কবির, ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ আলমগীর, মকবুল আহমদ, দিহানুল ইসলাম জিশান, হামিদ হোসেন ও হাবিবুর রহমান।
বাদী ইকরামুল কবির অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা এলাকায় চাঁদাবাজি, জবরদখল ও মাদক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।