বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্ন্তজাতিক

আবারও মার্কিন রাজনীতিতে ‘কাসেম সোলাইমানি’ আতঙ্ক!

২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানির পরিবারের ওপর নতুন করে খড়গহস্ত হয়েছে ওয়াশিংটন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধকালীন উত্তেজনার মধ্যেই সোলেইমানির ভাইঝি এবং নাতনিকে আটক করেছে মার্কিন ফেডারেল এজেন্টরা।তাঁদের স্থায়ী আবাসন বা গ্রিন কার্ড বাতিল করে এখন দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কাসেম সোলেইমানির ভাইঝি হামিদেহ সোলেইমানি আফশার এবং তাঁর মেয়ে এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁদের স্থায়ী নাগরিকত্বের আইনি বৈধতা বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এর হেফাজতে রয়েছেন।

মার্কো রুবিও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, হামিদেহ সোলেইমানি আফশার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও মনেপ্রাণে ইরানি শাসনের সমর্থক ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, আফশার বিভিন্ন সময় মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার ঘটনাগুলোকে উদযাপন করেছেন এবং আমেরিকাকে ‘গ্রেট শয়তান’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। রুবিওর মতে, যারা মার্কিন বিরোধী চরমপন্থী শাসনকে সমর্থন করে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কোনো অধিকার নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, হামিদেহ সোলেইমানি আফশারের স্বামীকেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আফশার তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি বিপ্লবী গার্ডস ও দেশটির সর্বোচ্চ নেতার প্রশংসা করে প্রচারণা চালাতেন। যুদ্ধের এই সংকটকালীন সময়ে একে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতেই ইরানের আরেক শীর্ষস্থানীয় নেতা আলী লারিজানির মেয়ে ফাতেমেহ আরদেশির-লারিজানি এবং তাঁর স্বামীর আইনি বৈধতাও বাতিল করেছিলেন রুবিও। আলী লারিজানি সম্প্রতি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার বিষয়টি সামনে এনেছেন। তিনি সোলেইমানিকে ‘রোডসাইড বোমার জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তাঁর প্রথম মেয়াদে নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত সঠিক। ট্রাম্প দাবি করেন, সোলেইমানি আজ বেঁচে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত এবং ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবির পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। এই যুদ্ধের আবহে ইরানি কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজনদের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে তাঁদের বহিষ্কার করার এই নীতিকে ‘কৌশলগত চাপ’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন কাসেম সোলেইমানি। তিনি ছিলেন ইরানের কুদস ফোর্সের প্রধান এবং দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক চরম বৈরিতার দিকে মোড় নেয়, যা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

ক্যাটাগরি