মহেশখালীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু, লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজারের বেশি শিশু
সারা দেশে হামের ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় শুরু হয়েছে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে বিশেষ জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বড় মহেশখালীর জাগিরাঘোনা কমিউনিটি ক্লিনিকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো শিশু যেন এই জীবনরক্ষাকারী টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়।
কর্মসূচি পরিদর্শন করেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম। তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ ও সঠিকভাবে টিকা প্রদানের নির্দেশ দেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় একযোগে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। মোট ১৯টি কেন্দ্রে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক কেন্দ্র এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী মোট ৫৫ হাজার ৩৮০ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনে প্রায় ৪ হাজার ২৩০ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এই কার্যক্রম আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
ডা. মাহফুজুল হক বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যেখানে একজন আক্রান্ত শিশু থেকে ১২ থেকে ১৮ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। তাই সংক্রমণ রোধে টিকাদানের বিকল্প নেই।
এদিকে বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শা. আ. ম এনায়েত উল্লাহ বাবুল স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে অভিভাবকদের শিশুদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচি সফল করতে স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠপর্যায়ে প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।