মহেশখালীতে পানি নিষ্কাশনের ছরা দখলের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে এলাকাবাসী
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরাঘোনা গ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশনের ছরা দখল করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছরাটি উদ্ধারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর পক্ষে আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফকিরাঘোনা গ্রামের মাঈনুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসার উত্তর পাশে অবস্থিত প্রায় ৩৮ ফুট প্রশস্ত একটি প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের ছরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু কয়েকজন ব্যক্তি ছরার মাঝখানে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে অভিযুক্ত হিসেবে ফকিরাঘোনা গ্রামের আবুল বশর, হুমায়ুন, আবদুল মালেক এবং নোনাছড়ি এলাকার মকছুদ মিয়া ও মনজুর আলমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছরার স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আবেদনকারী আবদুল মান্নান বলেন, “ছরাটি অবরুদ্ধ হওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। জনস্বার্থে দ্রুত ছরাটি উদ্ধার ও অবমুক্ত করা জরুরি।”
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জায়গাটি কালারমারছড়া মৌজার বিএস খতিয়ান নং-০১ (খাস) ও বিএস দাগ নং-৩০৫৫-এর অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি খাস জমির ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত সরেজমিন তদন্ত, অবৈধ প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ছরার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা প্রকাশ করা হবে।