মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়া

৩০ হাজার ইয়াবা সহ হোসেন আলী আটক, অতপর কারাগারে

৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, প্রাইভেট কার জব্দ, অবৈধ আয় ও সম্পদের তথ্য উদঘাটনে দূদকের হস্তক্ষেপ কামনা

দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েও মাদক ব্যবসা থেকে সরে আসেননি- এমন অভিযোগের মধ্যেই কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মোহাম্মদ শফির বিল এলাকার বাসিন্দা শামশুল আলমের পুত্র হোসেন আলীকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে রামু থানা পুলিশ। অভিযানের সময় তার ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কারও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও জব্দকৃত গাড়ির সম্মিলিত আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই হিমছড়ি এলাকায় স্থাপিত বিশেষ চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি চলাকালে সন্দেহজনক একটি প্রাইভেট কার থামানো হয়। পরে গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই হোসেন আলীকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

পুলিশের তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা এবং জব্দ করা প্রাইভেট কারটির মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এ ঘটনায় হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রভাকর বড়ুয়া বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটির নম্বর ৪২। মামলার জব্দ তালিকায় মোট ১ কোটি ৫ লাখ টাকার আলামত উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, হোসেন আলী দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় সক্রিয় একটি মাদক চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চক্রের নাম প্রকাশ করেনি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী,হোসেন আলীর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক মাদক-সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এছাড়া মানবপাচার ও জমি দখলসংক্রান্ত অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে হোসেন আলী ও তার ভাই জসিম এবং আরও দুই সহযোগীর সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার পিস ইয়াবা ও প্রায় ১০ লাখ টাকা নগদসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আটক ইয়াবা ডন হোসেন আলী পুনরায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কক্সবাজার-টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করলেও সংঘবদ্ধ চক্রগুলো এখনও সক্রিয় রয়েছে। তাদের মতে, কেবল মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তার নয়, এর সঙ্গে জড়িত অর্থের উৎস, নেপথ্যের নেটওয়ার্ক এবং সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে বিশ্বস্থ সূত্র জানিয়েছে, উক্ত ইয়াবা ডন হোসেন আলীর একাধিক স্ত্রী রয়েছে। তারাও তার এসব অনৈতিক কাজের অন্যতম সহযোগী বলে জানা গেছে। বিশেষ করে তার বড় স্ত্রী হাজেরা খাতুন ওরফে বেগম এসব কর্মকান্ডের অন্যতম সহযোগী। এছাড়া হোসেন আলীর বসত ভিটার মাটির নিচে গর্ত খুঁড়ে পাচারের উদ্দেশ্য কয়েকলাখ ইয়াবা, টাকা ও স্বর্ন লুকিয়ে রেখেছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বসত ভিটায় অভিযান পরিচালনা করলে লুকানো অবস্থায় এসব ইয়াবা, টাকা ও স্বর্ন উদ্ধার হবে এমন ধারনা করা হচ্ছে। এছাড়া সে এই ইয়াবা, মানবপাচার ও অবৈধ উপায়ে অর্জন করা টাকায় মোহাম্মদ শফির বিল এলাকায় অন্যের খতিয়ান ভুক্ত জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। অথচ উক্ত ভবন নির্মাণে আদালতের নিষেধাজ্ঞা, উখিয়া থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্মানকাজ বন্ধ রাখার সুনির্দিষ্ট নির্দিশনা থাকা স্বত্বেও তা অমান্য করে নির্মাণ কাজ অব্যহত রেখেছিল। আর এসব কাজে স্থানীয় ভাবে নেতৃত্ব ও যাবতীয় দেখভাল করে যাচ্ছেন তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী। অথচ হোসেন আলী কেরানীগঞ্জ কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় ইয়াবা মজুদ রাখার অভিযোগে বিজিবি কতৃক বাড়ী ঘেরাও ও তল্লাশি পূর্বক বাড়ী থেকে ইয়াবা উদ্বার করে মোহাম্মদ আলীকেও উখিয়া থানা পুলিশ কারাগারে পাঠায়। মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে ও মাদক , মানবপাচার ও অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা থানা ও আদালতে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। হোসেন আলী ও তার ভাইদের এসব অবৈধ উপায়ে আয় করা টাকা ও সম্পদ অর্জনের উৎস বের করতে দূর্নীতি দমন কমিশন (দূদকের) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

এদিকে, ৩০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারকৃত হোসেন আলীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস, সম্ভাব্য গন্তব্য ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে রামু থানা পুলিশের ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া ।

ক্যাটাগরি