মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

খতনার সময় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ: তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

মোহাম্মদ মোস্তফা

খতনার জন্য ভর্তি করা মোহাম্মদ মোস্তফা নামে চট্টগ্রামের সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা আদেশে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারকে কমিটির আহ্বায়ক এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমও (ডিসি) ডা. মো. নুরুল হায়দারকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ডা. মোহাম্মদ রাজিব হাসান, বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. নিগহাত জাবীন এবং হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ জানুয়ারি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকালে মোস্তফাকে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার এলাকার সেইফ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মোস্তফাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। রাত প্রায় ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুসনদে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত শিশুর বাবা আবু মুসা অভিযোগ করে বলেন, অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারে ত্রুটির কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “খতনার মতো একটি নিয়মিত চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় আমার ছেলের প্রাণ যাবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর মোস্তফাকে ওই চিকিৎসকের কাছে দেখানো হয়। ব্যবস্থাপত্রে তার প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত ত্রুটি ‘গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস’ শনাক্ত করা হয়। সেখানে খতনা ও ছোট পরিসরের অস্ত্রোপচারের কথা উল্লেখ ছিল এবং জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরিবার আরও জানায়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।

ক্যাটাগরি