রাজনীতি

শুধু বগুড়া নয়, পুরো দেশই বঞ্চিত হয়েছে: তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজের নির্বাচনী এলাকায় ফেরার সুযোগ পাওয়া বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার রাতে আবেগে ভেসে যান। শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “নিজের ঘরে এসে কী বলবো, নিজেই তাল হারিয়ে ফেলেছি। আমি ইমোশনাল হয়ে গেছি। ঘরের মানুষের কাছে বলবার কিছু নেই।”

তারেক রহমান স্মৃতিমাখা কথায় জানান, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সময়ের বগুড়া তার কাছে একটি মডেল জেলা ছিল। বনানী-মাটিডালি সড়ক, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং গ্যাস সংযোগের মতো প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে যা প্রয়োজন, সবই তখন আমরা বাস্তবায়ন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না। সবার সচেতন ও সিরিয়াস থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “বগুড়ার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার সুযোগ প্রয়োজন। ১২ তারিখের নির্বাচনের পর সবই করা হবে। মানুষের আস্থা সবচেয়ে বড় শক্তি।” তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে পুরো দেশই উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে, মেগা প্রকল্পের নামে হয়েছে মেগা দুর্নীতি।

চাকরি মেধার ভিত্তিতে দেওয়া হবে এবং বগুড়ার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে, তবে অন্য জেলা যেন বঞ্চিত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে। তিনি যোগ করেন, “আজ আমার কিছু দেওয়ার নেই, আমার কিছু চাওয়ার আছে। আপনাদের দোয়া চাই।”

জনসভায় তার সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় সংক্ষিপ্ত গণদোয়ায় অংশ নেন।

সভা শুরু হওয়ার আগে বিকেল থেকেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে। মধ্যরাত পর্যন্ত জনসভায় অংশ নিতে অনেকেই আশপাশের উঁচু ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানকে দেখার জন্য অপেক্ষা করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। অনুষ্ঠানে বগুড়ার ছয়টি আসনের বিএনপি প্রার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

ক্যাটাগরি