রামুর খুনিয়াপালংয়ে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ!
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় যাত্রীবাহী দুটি বাসের মধ্যে এক ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে কক্সবাজার টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং রাবেতা হাসপাতালের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে কক্সবাজারমুখী একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাসের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনার সময় বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, দুটি বাসেরই সম্মুখভাগ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ভেতরে থাকা যাত্রীদের চিৎকার ও আহাজারিতে ঘটনাস্থলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়েন।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, সকালবেলা আচমকা একটা বিকট শব্দ শুনলাম। তাকিয়ে দেখি দুইটা বাস একটার ভেতর আরেকটা ঢুকে গেছে। আমরা দ্রুত গিয়ে আহত মানুষদের উদ্বার করতে করি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় উৎসুক জনতা ও উদ্ধারকর্মীরা যৌথভাবে কাজ করে বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী যাত্রী ও পর্যটকরা। পরে হাইওয়ে পুলিশ রেকারের সাহায্যে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি রাস্তা থেকে সরিয়ে নিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি এবং ওভারটেকিংয়ের প্রবণতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। বাস দুটিকে জব্দ করা হয়েছে। চালকদের অসতর্কতা নাকি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।