পেটের ভেতরে ২৩০০ পিস ইয়াবা বহন, র্যাবের অভিযানে আটক মাদক কারবারি
মাদকের চালান বহনে একের পর এক নতুন কৌশল অবলম্বন করছে মাদক কারবারিরা। এবার কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে বিশেষ কৌশলে পেটের ভেতরে ইয়াবা বহন করে খুলনায় নেওয়ার সময় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে র্যাবের হাতে আটক হয়েছেন এক মাদক কারবারি। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার পেট থেকে ২ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে র্যাব-৬ এর সদর কোম্পানি (ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প) এবং র্যাব-১০ সিপিসি-৩, ফরিদপুরের যৌথ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
আটক ব্যক্তি মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৩)। তিনি খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে করে ইয়াবার চালান নিয়ে যাচ্ছিলেন।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাসে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে আমিনুল ইসলামকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ২ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা বিশেষ কৌশলে পেটের ভেতরে বহন করে ঢাকা হয়ে খুলনায় নিয়ে যাচ্ছিলেন।
তার স্বীকারোক্তির পর বাসের চালক, সুপারভাইজার ও যাত্রীদের উপস্থিতিতে তাকে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে পরীক্ষা করলে তার পেটে ইয়াবা বহনের সত্যতা নিশ্চিত হয়। পরে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার পেট থেকে মলের সঙ্গে বেরিয়ে আসে ২ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা। উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ইয়াবাগুলো জব্দ করা হয়।
র্যাব-৬ এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম রেজাউল হক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারিরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করলেও গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া ২ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাশিয়ানী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।