টানা বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধস: কলাতলীতে ৫ বাড়ি চাপা, আহত ৪; দুই দফায় বন্ধ মেরিন ড্রাইভ
টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে শহরের কলাতলী ও মেরিন ড্রাইভ এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত পাঁচটি বসতবাড়ি মাটিচাপা পড়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। একই দিন দুই দফায় পাহাড়ধসে মেরিন ড্রাইভ সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে মধ্যম কলাতলীর উত্তরপাড়ায় হঠাৎ পাহাড়ধসের ঘটনায় অন্তত পাঁচটি বসতবাড়ি মাটিচাপা পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে মাটিচাপা পড়া কয়েকজনকে উদ্ধার করেন। আহত চারজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে একই দিন সকাল সাড়ে ১০টা ও দুপুর ১২টায় কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর এলাকায় পৃথক দুই দফায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়লে সড়কের ওপর কাদামাটির স্তূপ জমে যায়। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে এবং সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধসে পড়া মাটি অপসারণের কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর সড়কটি পরিষ্কার করা হলে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার ও মাটি সরানোর কাজে সহযোগিতা করেন।
ঘটনাস্থলে থাকা এক গাড়িচালক বলেন, “সকাল সাড়ে ১০টা ও দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। আমি একদম কাছাকাছি ছিলাম। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছি। ধসের পরপরই রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।”
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
এদিকে টানা বর্ষণে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রশাসন পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।