আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে: দুদক মুখপাত্র
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার বিকেলে সংস্থাটির মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধানে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়াও রয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
এর আগে বুধবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। এসব অভিযোগের মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য ইতোমধ্যে দুদকের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ, বদলির প্রক্রিয়া পর্যালোচনা এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাইসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখছে অনুসন্ধান দলটি।
বুধবার বিকেলে দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁর এই বক্তব্যের ফলে এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধান শুরুর খবরের বিষয়ে দুদকের আনুষ্ঠানিক অবস্থানও স্পষ্ট হলো।
তবে কোনো অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া এবং চূড়ান্তভাবে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। অনুসন্ধান শেষে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দুদক।
এদিকে, এর আগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করেছিল দুদক। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদবির-বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধান চালানোর পর গত ফেব্রুয়ারিতে ওই অভিযোগ থেকে মোয়াজ্জেম হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগের অনুসন্ধান এবং এবার তাঁকেই সরাসরি সম্পৃক্ত করে নতুন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার তথ্য—দুদকের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান। অনুসন্ধান শেষে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা বা অন্য কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।