শীতে সড়কের পাশে ফেলে রাখা দুই শিশুর সেই পাষণ্ড বাবা পুলিশ হেফাজতে
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কনকনে শীতের রাতে সড়কের পাশে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা দুই শিশুর পরিচয় অবশেষে মিলেছে। শিশু দুটির বাবা মো. খোরশেদ আলম (৩৫)–কে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে বাঁশখালী উপজেলা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে ওই দুই শিশু জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।
এর আগে, গত রবিবার রাতে আনোয়ারা উপজেলার ৬ নম্বর বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকা থেকে চার বছরের আয়েশা আক্তার ও ১৪ মাস বয়সী মোরশেদকে উদ্ধার করেন এক অটোরিকশাচালক। কনকনে শীতে সড়কের পাশে পড়ে থাকা শিশু দুটিকে দেখে মানবিকতা থেকে তিনি তাদের নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আনোয়ারা থানা-পুলিশ শিশুদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
চিকিৎসকরা জানান, ছোট শিশুটি জন্মগত রোগে আক্রান্ত এবং বড় শিশুটির চর্মরোগ রয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর শিশু দুটির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
পুলিশ হেফাজতে থাকা খোরশেদ আলম জানান, তার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহামনি এলাকায়। পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন এবং পরে বাঁশখালীর মিয়ারবাজার লস্করপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
খোরশেদ আলমের দাবি, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় সংসারের কিছু জিনিসপত্র ও প্রায় ১৮ হাজার টাকা নিয়ে যান তিনি। এরপর দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো খোঁজ পাননি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী ছোট প্রতিবন্ধী শিশুটিকে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাতেন, যার কারণে তাকে বিভিন্ন জায়গায় জরিমানাও দিতে হয়েছে। শিশুদের মায়ের বাড়ি সাতকানিয়ার মৌলভীর দোকান এলাকায় বলে জানান তিনি।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে খোরশেদ আলমকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, “ইতোমধ্যে পুলিশের মাধ্যমে শিশুগুলোর বাবার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তার বাবা-মাকে এখানে আসতে বলা হয়েছে। শিশুদের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, শিশুদের বাবাকে শনাক্ত করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। শিশু দুটো বর্তমানে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।