প্রার্থীতা ফিরে পাচ্ছেন কক্সবাজার–২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ
মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণার পর রাতেই কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন,
‘ফ্যাসিবাদী আমলের সাজানো ও মিথ্যা মামলার অজুহাতে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি কিংবা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। এরপরও ২০১৩ সালের একটি আদালত অবমাননার মামলাকে সামনে এনে প্রার্থিতা বাতিল করা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত।’
আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে আযাদ বলেন,
‘যে মামলার কথা বলা হচ্ছে, সেটি কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার মামলা এটি, যা ক্রিমিনাল কেসের সংজ্ঞায় পড়ে না।’
তিনি আরও দাবি করেন,
‘২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই একই বিষয় উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন আইনি পর্যালোচনার পর রিটার্নিং অফিসার এটিকে নির্বাচনী অযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ওই মামলায় সাজা ঘোষণার পরও আমি দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।’
আযাদের আইনজীবী মোহাম্মদ আরিফ জানান,
‘তিনি ওই মামলায় তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন এবং বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিলাধীন রয়েছে। এটি আদালত অবমাননার মামলা, কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ নয়। আমাদের বক্তব্য না শুনেই একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। আমরা অবশ্যই আপিলে যাচ্ছি।’
নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আগামী ৫ থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করা যাবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ধারা ১২(১)(গ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ন্যূনতম দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে কারামুক্তির পর পাঁচ বছর পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য থাকেন। তবে আযাদের আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, তিনি দুই বছরের কম সাজা ভোগ করেছেন এবং তা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই দণ্ডাদেশ কার্যকরের জন্য সাবেক এই সংসদ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং সাজাভোগ শেষে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
যেহেতু মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে আপিলাধীন, তাই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আপিলে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচিত সাবেক এই সংসদ সদস্যের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করছে। আপিল নিষ্পত্তির পর ১২ জানুয়ারি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।