বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়া

বিশেষ বাহিনীর প্রহারে কুতুবদিয়ার দিদার মাঝিসহ ১০ জেলে গুরুতর আহত, হাসপাতালে ভর্তি

অভাবে স্বভাব নষ্ট, পেটের দায়ে ও সংসারের অভাবের গ্লানি টানতে গিয়ে কুতুবদিয়া উপকূলের কয়েকজন জেলে বঙ্গোপসাগরে কিনারায় মাছ ধরতে যায়। ইতিমধ্যে মৎস্য প্রজনন উপলক্ষে মৎস্য অধিদপ্তর কতৃপক্ষ সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তা অমান্য করে সোমবার সকালে (১জুন) কুতুবদিয়া উপকূলের উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের কাইছার পাড়ার বাসিন্দা মোঃ দিদারুল আলম (মাঝি) নেছার উদ্দিন সহ আরও কিছু জেলে নিয়ে কুতুবদিয়া উপকূলের নিকটে সাগরে মাছ ধরতে যায়। খবর পেয়ে এদিন দুপুর ১টায় বিশেষ বাহিনীর টহলরত জাহাজ তাদের মাছ ধরা অবস্থায় আটক করে। আটকের পর তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালায় বলে জেলে নেছার উদ্দিন উপকূলে ফিরে এসে এলাকার ও পরিবারের লোকজনকে বর্ণনা করেন। বিকালে আহত কয়েকজন জেলেকে কুতুবদিয়া উপকূলে রেখে ট্রলার ও ৫ জেলেকে চট্টগ্রামে বাহিনীর জোনাল দপ্তরে নিয়ে যায়। আহতদের কুতুবদিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বর্বরোচিত নির্যাতনের দৃশ্য দেখে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে বিশেষ বাহিনীর স্টেশনে মুটোফোনে যোগাযোগ করলে অত্র অফিস কিছুই জানেন না বলে জবাব দেন।
উত্তর ধুরুং ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মনছুর রাব্বি জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মাছ ধরতে গেলে উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের কায়ছার পাড়ার একটি ট্রলার বিশেষ বাহিনী আটক করে। ট্রলারের কিছু জেলে উপকূলে রেখে ৫জেলে ও ট্রলারটি চট্টগ্রাম বিশেষ বাহিনীর জোনাল অফিসে নিয়ে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে।
কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্যজীবি দলের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জেলেদের উপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় খুবই দুঃখজনক অমানবিক তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি লেখা পোষ্ট দিয়েছেন যে,একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো নাগরিকের ওপর এ ধরনের বর্বরোচিত আচরণের স্থান নেই। যদি কোনো ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করে থাকেন, তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায, আদালত তার বিচার করবে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সাধারণ মেহনতি জেলেকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অধিকার কারও নেই।

বাংলাদেশের সাগরে মৎস্য প্রজন্ম বৃদ্ধির লক্ষ্য বর্তমানে সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলমান। উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা অভাবে কারনে প্রতিনিয়ত সব এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ শিকার করছে। সেই প্রেক্ষিতে এই জেলে দিদারুল আলম মাঝি তার পরিবারের অভাবের তাগিদে কুতুবদিয়া উত্তর দিকে সাগর জাল বাসায়। কিন্তু বিশেষ বাহিনীর একটা টহল দল এসে তাদের বেদর নির্মমভাবে মারতে থাকে। এতে আহত হয় ১০ জন জেলে। তার মধ্যে দিদার মাঝির অবস্থা খুবই গুরুতর।

এই জেলের শ্রমে পরিবার চলে, দেশে মাছের চাহিদা পূর্ণ করে এবং দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়। সেই জেলেদেরই যদি আইন প্রয়োগের নামে রক্তাক্ত করা হয়, অপমানিত করা হয়, তাহলে এটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর নির্যাতন নয়,এটি পুরো জেলে সমাজের মর্যাদার ওপর আঘাত করে । এই জেলেরা বন্ধের সময় জেলে প্রণোদনার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যানের মাস্তান কতৃক মার খেতে হয়।

আমরা মনে করি, একজন মানুষের শরীরে থাকা রক্তাক্ত ক্ষত ও কালশিটে দাগ শুধু নির্যাতনের চিহ্ন নয়, বরং এটি মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনের প্রতি চরম অবহেলার প্রতীক।

কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্যজীবী দল অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত দোষী কর্মকর্তা বা সদস্যদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই আইনের শাসন চাই, নির্যাতন নয়। জেলেদের সম্মান চাই, অপমান নয়।মানবাধিকার চাই, বর্বরতা নয়।
এ ব্যাপারে জেলে পরিবার বিশেষ বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেছেন বলে নিশ্চিত করেন।

ক্যাটাগরি