ইয়াবা কারবারের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল সৈয়দ মিয়ার, হোয়াইক্যং হত্যাকাণ্ডে দুইজনের জবানবন্দি
হোয়াইক্যংয়ের আলোচিত সৈয়দ মিয়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ৩ জানুয়ারি টেকনাফ মডেল থানার একটি দল কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সৈয়দ মিয়া হত্যা মামলার আসামি আরফাত (২২) কে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মো. ইসমাইল (২৯) সহ অন্যান্য আসামিদের নাম প্রকাশ করেন।
আরফাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৪ জানুয়ারি হোয়াইক্যং এলাকা থেকে মো. ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৫ জানুয়ারি তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী জানা যায়, নিহত সৈয়দ মিয়ার সঙ্গে মামলার আরেক আসামি নিশানের ইয়াবা লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে গত ৫ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিশান, আরফাত, তারেক, ইসমাইলসহ কয়েকজন মিলে নোহা গাড়িযোগে কক্সবাজার শহর থেকে সৈয়দ মিয়াকে পালংখালীতে নিশানের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তার মুখে কস্টেপ পেঁচিয়ে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ গুম করতে পালংখালী থেকে হোয়াইকংয়ের চাকমারকুল খালের পাশে জোবায়েরের জমির কাছে একটি গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটি চাপা দেওয়া হয়।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস জানান, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।