কাবিনের দিনে ঘরে ফেরা হলো না, কর্ণফুলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবকের
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই থেমে গেল এক তরুণের জীবনের পথচলা। কাবিনের দিন হবু শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আনোয়ারার এক যুবক। শুক্রবার ভোর সাড়ে সাতটার দিকে কর্ণফুলী উপজেলার পিএবি সড়কের ফাজিলখাঁরহাট বাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম মো. আলী আব্বাস রিমন (২৮)। তিনি আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরী মাজারগেট এলাকার বাসিন্দা মো. মুছার ছেলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। আজই তার বিবাহোত্তর কাবিন সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রিমন শ্বশুরবাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারিতে যান। সেখানে রাত কাটিয়ে শুক্রবার ভোরে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি আনোয়ারার উদ্দেশে রওনা দেন। ফাজিলখাঁরহাট বাজার এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকে ধাক্কা দেয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাল্যবন্ধু মো. ফরহাদ বিন তাহের বলেন, আজ রিমনের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না যে সে আর নেই।
কিছু স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, কক্সবাজারগামী একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহতের চাচাতো ভাই মো. শিবলু জানান, পুলিশ খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন, তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানা যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর জামান বলেন, ভোরে পিএবি সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সড়ক দুর্ঘটনার বেদনা এই পরিবারের জন্য নতুন নয়। গত বছরের এপ্রিল মাসে বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরী এলাকায় একই মোটরসাইকেলে বাসের ধাক্কায় রিমনের বড় ভাই সুমনের স্ত্রী নিহত হয়েছিলেন। এবার কাবিনের দিনেই পরিবারের আরেকটি স্বপ্ন চিরতরে থেমে গেল।