গণভোটে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশজুড়ে সরকারি কর্মসূচি শুরু
গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূলে বিদ্যমান বিভ্রান্তি দূর করতে সরকার দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার বরিশালে পৃথকভাবে বিভাগীয় কর্মকর্তা সম্মেলন ও ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনগুলোতে গণভোটের গুরুত্ব, পদ্ধতি ও নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে প্রশিক্ষণমূলক বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং অপর বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। তারা বলেন, গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ভুল ধারণা দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা এবং বেসরকারি সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। অন্যদিকে ইমাম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বরিশালের পর পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগে এ ধরনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ ১২ জানুয়ারি রাজশাহী, ১৪ জানুয়ারি রংপুর, ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম, ১৭ জানুয়ারি ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ, ২২ জানুয়ারি সিলেট এবং ২৪ জানুয়ারি খুলনা বিভাগে বিভাগীয় পর্যায়ে ইমাম সম্মেলন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এসব মতবিনিময় সভায় বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকবৃন্দ, বিশিষ্ট সাংবাদিক, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদক, দোকান মালিক সমিতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রধান বা সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব সভার মূল উদ্দেশ্য হলো গণভোট বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা এবং স্থানীয় পর্যায়ের সব স্টেকহোল্ডারকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা, যাতে তারা নিজ নিজ এলাকায় জনগণকে সঠিক তথ্য দিয়ে গণভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে পারেন।
সরকার মনে করছে, সম্মিলিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে গণভোট প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে।