বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত সন্দ্বীপের তারেক

বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক (৪৮)–এর পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। তার একমাত্র সন্তান কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না-বাবা আর বেঁচে নেই।

সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের পাহাড়েরগো বাড়ির বাসিন্দা তারেক দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার ভোরে বাহরাইনের একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তিনি নিহত হন। সর্বশেষ দেড় বছর আগে তিনি বাহরাইনে গিয়েছিলেন।

নিহতের ফুফাতো ভাই মোশারফ হোসেন, যিনি চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত, জানান তারেকই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। তার স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা সন্তান রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

কলেজপড়ুয়া কন্যা তাসনিম তামান্না কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার বাবা নেই-এটা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। রবিবার ইফতারের আগে ভিডিও কলে হাসিমুখে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। একদিনের ব্যবধানে কীভাবে মেনে নেব বাবা আর নেই?”

তিনি আরও বলেন, “আমি মা-বাবার একমাত্র সন্তান। যখন যা চেয়েছি, বাবা তা-ই দিয়েছেন। আমার কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ রাখেননি। এখন বাবা নেই, আমাদের সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারছি না। প্রতি দুই বছর পর পর জানুয়ারিতে দেশে আসতেন। কয়েক মাস থেকে আবার চলে যেতেন। এবার তার দেশে থাকার কথা ছিল। কিন্তু কী কারণে যেন আসেননি। দেশে থাকলে হয়তো বেঁচে যেতেন।”

শোকাহত তাসনিম দ্রুত তার বাবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বজনদের আহাজারি আর অশ্রুতে ভরে উঠেছে বাড়ির আঙিনা। প্রবাসে জীবিকা অর্জনের সংগ্রামে থাকা এক শ্রমিকের এমন করুণ মৃত্যু পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।

ক্যাটাগরি