বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার জেলা

কক্সবাজারে হামের সংক্রমণ বেড়ে উদ্বেগ, সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে আইসোলেশন ওয়ার্ড

কক্সবাজারে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা গেছে, সাধারণ রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে এসে অনেক শিশুই হামে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

মহেশখালীর বাসিন্দা ময়না পাখির ৬ মাস বয়সী শিশু আসলিহান প্রথমে নিউমোনিয়া নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি ছিল। পরে পুনরায় অসুস্থ হয়ে ভর্তি হলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, শিশুটি হামে আক্রান্ত হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশু ওয়ার্ডের ভেতরেই থাকা হাম ইউনিটে ৮টি শয্যায় সর্বোচ্চ ২৪ জন রোগী রাখার কথা থাকলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে অন্য রোগীদের সাথেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে ২০ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহীউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যদিও একটি ক্ষেত্রে রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। ২৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬৫ জন আক্রান্ত হয়েছে এবং চলতি বছরের শুরু থেকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৮ জনে। এর মধ্যে ৩৪ জনের শরীরে পরীক্ষায় হাম পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শান্তনু ঘোষ জানান, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে হামে আক্রান্ত প্রায় ৬০ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৩ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২০ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ইতোমধ্যে কক্সবাজারকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে দুই উপজেলায় হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ক্যাটাগরি