মানবপাচার চক্র নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, রামুতে চাঞ্চল্য
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এক সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জানা যায়, স্থানীয় দৈনিক আজকের কক্সবাজার বার্তা পত্রিকার প্রতিবেদক নুরুল আলম সাগর (এন.এ সাগর) গত ১০ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে একটি ফোনকলের মাধ্যমে হুমকির শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়, দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিম (২২) তাকে ফোন করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পূর্বে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সরিয়ে না নিলে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় আজিমের মামা মোস্তাক আহমদের প্ররোচনার কথাও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রামু থানায় দায়ের করা জিডি নম্বর ৬০২ (তারিখ: ১১ এপ্রিল ২০২৬) অনুযায়ী, মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরেই এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন সাংবাদিক সাগর।
সাংবাদিক সাগরের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং টাইংগাকাটা এলাকায় সক্রিয় একটি মানবপাচার চক্রের চিত্র তুলে ধরা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোস্তাক আহমদ ও নুরুল করিব (বাদশা) নামে দুজনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চক্রটি দরিদ্র যুবকদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি তিন থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করে এবং পরে তাদের অবৈধভাবে সাগরপথে পাচার করে। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনায় সাত যুবক থাইল্যান্ডে গিয়ে আটক হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া, চক্রটি অপহরণ করে জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গেও জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ৩০ মার্চ দুই যুবককে তুলে নিয়ে জিম্মি করার ঘটনাও স্থানীয়ভাবে আলোচিত।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোকে পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখান থেকে নারী, শিশু ও পুরুষদের সংগ্রহ করে ট্রলারের মাধ্যমে সাগরপথে পাচার করা হয়।
তবে অভিযুক্ত মোস্তাক আহমদ ও নুরুল করিব নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এদিকে, সাংবাদিকের ওপর এমন হুমকির ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং হুমকির শিকার সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ফরিদ জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে জিডি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রামু ক্রাইম রিপোর্টার ইউনিটির আহ্বায়ক মো. সাঈদুজ্জামান বলেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে রামু মানবপাচারের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।