মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুতুবদিয়া

শেষ দেখা ছিল মৃত্যুর আগে: প্রেমিকের বিয়ের সাজ সহ্য হলো না জিন্নাতের

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার নয়া ঘোনা গ্রামে শনিবার রাত নেমেছিল নিস্তব্ধ শোক হয়ে। চার বছরের ভালোবাসা, একসঙ্গে সংসার গড়ার স্বপ্ন আর অপেক্ষার শেষ প্রহর—সবকিছু যেন এক মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল জিন্নাত আরার জীবনে।

২২ বছরের এই তরুণী শেষবারের মতো ছুটে গিয়েছিলেন সেই মানুষের বাড়িতে, যাকে ঘিরে তিনি বুনেছিলেন ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলেন অন্য এক বাস্তবতা—বাড়িজুড়ে বিয়ের সাজ, আনন্দের কোলাহল, নতুন জীবনের আয়োজন। আর সেই দৃশ্যই যেন তার ভেতরের সব শক্তি কেড়ে নেয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উপস্থিত সবার সামনেই হঠাৎ বিষপান করেন জিন্নাত। মুহূর্তেই আনন্দঘন পরিবেশ নেমে আসে আতঙ্ক আর কান্নায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। শনিবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি।

জানা গেছে, জিন্নাত আরার সঙ্গে একই ইউনিয়নের রহিম উল্লাহর চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু পরিবারের সিদ্ধান্তে অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয় রহিমের। শুক্রবার ছিল সেই বিয়ের দিন।

জিন্নাতের বাবা নাজের হোসেন অভিযোগ করেন, মেয়ের অসুস্থ অবস্থাতেও প্রেমিকের পরিবারের লোকজন মানবিক আচরণ করেনি; বরং তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে নেয়।

ঘটনার পর পুরো লেমশীখালী এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা। কেউ বলছেন, “ভালোবাসা হারানোর কষ্ট তাকে শেষ করে দিল,” আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন পরিবার, সমাজ ও সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে।

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি অসমাপ্ত প্রেম, কিছু অপূর্ণ স্বপ্ন আর বুকভাঙা অভিমান—সব মিলিয়ে জিন্নাত আরার গল্প এখন কুতুবদিয়ার মানুষের মুখে মুখে এক হৃদয়বিদারক স্মৃতি।

ক্যাটাগরি