বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেকুয়া

মগনামা লঞ্চ ঘাটে পানিতে পড়ে যুবক নিখোঁজ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাটে বোটে ওঠার সময় পানিতে পড়ে শামিম (২৮) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ শামিম ভোলা জেলার মোসলে উদ্দিনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একটি শিপ কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

নিখোঁজের স্ত্রী করিনা বেগম জানান, প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তিনি চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। অসুস্থতার কারণে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি কুতুবদিয়ায় যাচ্ছিলেন। মগনামা ঘাটে পৌঁছানোর পর ডেনিস বোটে ওঠার সময় তার চোখের সামনেই অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে যান শামিম।

করিনা বেগম বলেন, “আমার স্বামী সাঁতার জানতেন। কিন্তু পানিতে পড়ার পর খুব দ্রুত ডুবে যান। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।”

ঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম জানান, অসাবধানতাবশত ওই যুবক পানিতে পড়ে যান। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। তবে তাদের কাছে প্রশিক্ষিত ডুবুরি না থাকায় পানিতে নিখোঁজ ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার ভাষ্য, নিখোঁজ ব্যক্তি পানির নিচে থাকায় এবং ভেসে না ওঠায় উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে পড়েছে।

মগনামা লঞ্চঘাটে বোটে ওঠানামার সময় এমন দুর্ঘটনা যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ঘাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম, লাইফ জ্যাকেট, উদ্ধারকারী সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত ডুবুরি না থাকলে পানিতে পড়ে যাওয়া কোনো ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে বোটে ওঠার সময় যাত্রীদের চলাচলের জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা এবং ঘাটে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাকর্মী থাকা জরুরি। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও বোটে ওঠানামার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

শামিমের সন্ধানে স্বজনদের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। স্থানীয়দের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলও তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ক্যাটাগরি