কুতুবদিয়া

কুতুবদিয়াবাসীর চাহিদা ছিলো ফেরী, আড়াই মাস ধরে বন্ধ সী-ট্রাক সার্ভিস

কুতুবদিয়া চ্যানেল পারাপার নিয়ে অভিজ্ঞ মহলের মতামতের শেষ নেই। সী-ট্রাক সার্ভিস সুবিধা নিয়ে কিছু সংখ্যক লোক সন্তুষ্টি হলেও পরিবহন খাতের লোকজন সন্তুষ্ট নয়।

সী-ট্রাক ও ফেরী পারাপারে পার্থক্য অনেক। বাস্তব চিত্র হলো—সী-ট্রাকে করে কেবল মানুষ পারাপার করা যায়, কিন্তু ফেরীতে মানুষও গাড়ি উভয়ই পারাপার করা সম্ভব। বাস্তবতায় রোগী বা লাশ, গর্ভবতী নারীদের দূর্ভোগের কথা বলে শেষ করা যাবে না। গর্ভবতী নারী নিয়ে কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিতে স্পীডবোটের মাঝ পথে প্রসব হওয়ার ঘটনা অনেক ঘটেছে। কুতুবদিয়ার মতো দ্বীপের জন্য এই পার্থক্যটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কুতুবদিয়া চ্যানেলে দৈনিক ৫০/৬০ হাজার মানুষ যাত্রী হয়ে পারাপার করে থাকে। তার পাশাপাশি দ্বীপে বসবাসরত দুই লক্ষাধিক মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অনিরাপদ।

কুতুবদিয়া থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ লবণ,মাছ, তরিতরকারিসহ অন্যান্য পণ্য বাহিরে পাঠানো হয় এবং বাহির থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ নির্মাণ সামগ্রী ও জরুরি পণ্য আনা হয়। এগুলো গাড়ি ছাড়া নিরাপদ ও নিয়মিত পরিবহন সম্ভব নয়, যা সী-ট্রাকে সম্পূর্ণ অসম্ভব। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে লোড আনলোড খরচ বেশী গুনতে হয় বলে দ্বীপের ভীতরে পণ্য সামগ্রী মালামালের দামও তুলনামুলক চড়া।

বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কতৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কুতুবদিয়া চ্যানেলে সকাল ৬টা থেকে আধা ঘন্টা পরপর ডেনিশ বোট চালু আছে, স্পীডবোট যাত্রী হলে পাড়ি দেয়। কিন্তু সীট্রাক সার্ভিস সকাল ৭টায় যাত্রী নিয়ে কুতুবদিয়া থেকে মগনামা যায়, মগনামা থেকে সকাল ৯টায় কুতুবদিয়ায় যায়, দুপুর ১২টায় কুতুবদিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে মগনামা যায়, দুপুর ২টায় মগনামা থেকে যাত্রী নিয়ে কুতুবদিয়ায় যায়, বিকাল ৫টায় কুতুবদিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে মগনামা যায়, রাত ৭টায় মগনামা থেকে যাত্রী নিয়ে কুতুবদিয়ায় যায়।

তবে দুর্ভাগ্যবশত বিগত আড়াই মাস ধরে কুতুবদিয়া চ্যানেলে যাত্রী পারাপারে সী-ট্রাক সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। কারণ হচ্ছে কুতুবদিয়া জেটিতে সী-ট্রাক প্রোটেকশন খুঁটি ভেঙ্গে যাওয়ায় মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। তাই সী- ট্রাক সার্ভিস বন্ধ আছে বলে নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ(বিআইডব্লিউটিএ) নিশ্চিত করেন।
যাত্রী মোহাম্মদ রুবেল বাস্তবচিত্র তুলে ধরে বলেন, মানুষ সী-ট্রাক সার্ভিস সুবিধা নেয়ার জন্য অপেক্ষা করে না। ডেনিশ বোটের জন্যও মানুষ অপেক্ষা করে না। স্পিডবোট সার্ভিসেই যাত্রীদের বড় অংশ চলাচল করে। ফলে সী-ট্রাক সার্ভিস চালু হলে যাত্রী সংকট তৈরি হবেই, যা শেষ পর্যন্ত লোকসানের বোঝা হয়ে দাড়াঁচ্ছে।
এমনও দেখা যায় যাত্রীদের অতীব জরুরী কাজ না থাকলে যাত্রীরা সী-ট্রাকের সময় সিডিউল মোতাবেক লঞ্চ ঘাটে এসে সী-ট্রাকে নিরাপদ পারাপার করে।

অতীত অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে ব্যর্থতাঃ এটি কোনো নতুন পরীক্ষা নয়। ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েও কুতুবদিয়ায় সী-ট্রাক দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই কোটি টাকা লোকসান দিয়ে সেই সী-ট্রাক সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল সরকার। ইতিহাস উপেক্ষা করে একই ভুল আবার করা হচ্ছে।

ফেরী হলে কারা লাভবান হতো? ফেরী চালু হলে– কুতুবদিয়ার ২ লক্ষ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হতো। লবণ ও মাছ পরিবহন সহজ ও কম খরচে সম্ভব হতো। নিত্যপণ্য গাড়িতে সরাসরি দ্বীপে পৌঁছাতো।কুতুবদিয়ার জীবনমান ও অর্থনীতি উন্নত হতো। সরকার ও বিআইডব্লিউটিএ নিয়মিত রাজস্ব আয় হতো। অর্থাৎ, ফেরী সার্ভিস চালু হলে কুতুবদিয়া দ্বীপে পর্যটন শিল্প বিকাশ, পর্যটকরা নিজস্ব বা যাত্রীবাহি পরিবহন নিরাপদ চ্যানেলে পাড়ি দিতে পারলে সরকারের শত শত কোটি টাকা আয়ের উৎস খুজে ফেত। ধরতে গেলে সী-ট্রাক বর্তমানে লোকসান প্রকল্প। কুতুবদিয়ার মানুষ বিলাসিতা চায়নি, চেয়েছিলো নিরাপদ টেকসই ও অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা।

ক্যাটাগরি