রামুর গর্জনিয়ায় সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ১
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে ডাকাতরা পালিয়ে গেলেও তাদের এক নারী সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোরে রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের থোয়াইঙ্গাকাটা ঘোনার পাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের একটি বিশেষ অভিযানিক দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত সন্ত্রাসী নুরুল আবছার ওরফে ল্যাং আবছার ও তার সহযোগী রহিমসহ কয়েকজন ডাকাত ওই পাহাড়ি এলাকায় গোপন আস্তানায় অবস্থান করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ভোর রাতে অভিযান শুরু হয়।
অভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গভীর পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। পরে রামু থানা পুলিশ ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ঘর ও গোপন আস্তানায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, বিদেশি পিস্তলের আদলে একটি ডামি পিস্তল, দুটি একনালা বন্দুক, ৪৯টি পিস্তলের গুলি, ৬টি রাইফেলের গুলি, ৩টি কার্তুজ, একটি কার্টার, দুটি ধারালো অস্ত্র (ক্রিচ), দুটি বাটন ফোন এবং সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় ডাকাত দলের সহযোগী আয়েশা বেগম রিয়াকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।
আটক আয়েশা বেগম রিয়া (২৫) ওই এলাকার নুরুল আহম্মদের মেয়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়া স্বীকার করেছে যে উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো কুখ্যাত ডাকাত নুরুল আবছার ওরফে ল্যাং আবছার এবং তার সহযোগী রহিমের। তিনি আরও জানান, রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই ডাকাত দলের বিভিন্ন অপকর্মে সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল।
ওসি জানান, পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আটক আসামির বিরুদ্ধে রামু থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নুরুল আবছার ওরফে ল্যাং আবছারের বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যাসহ প্রায় দশটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে থেকে সে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র পরিচালনা করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই অভিযানের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতার বড় একটি নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব আরও স্পষ্ট হলো বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।